দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়া ও গোপালগঞ্জকে আলাদাভাবে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। দেশের সব অঞ্চলের সমান উন্নয়নে বিশ্বাসী সরকার। গোপালগঞ্জের অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বগুড়ার উন্নয়নেও একবিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পাঁচতারকা হোটেল মমইনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের আয়োজনে এবং টিএমএসএসের সহযোগিতায় ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বট ও গুপ্ত শুধু জামায়াত শিবির কিংবা আওয়ামী লীগে নয়, বিএনপিতেও আছে।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ উত্তরবঙ্গের মানুষের সঙ্গে উন্নয়নের নামে ধোঁকাবাজি করেছে। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এর মধ্যেই সরকার সারা দেশে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বগুড়া একটি কৃষি ও খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। এ জেলার জন্য অতিরিক্ত কিছু চাওয়া হচ্ছে না। বরং অতীতে যে উন্নয়ন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে চাওয়া হচ্ছে। গত ২০ বছর বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফখরুদ্দীন ও মঈন উদ্দিনের সরকারও ছিল ভয়াবহ।
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশন, স্পোর্টস ভিলেজ, সড়ক উন্নয়ন, পৌরসভার উন্নয়ন, বগুড়া ওয়াসা এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রানওয়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাস থেকেই বগুড়া থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল চালুর কথা ভাবলেও বগুড়ায় একেবারে বহুমাত্রিক বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বগুড়া সিটি করপোরেশনে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বগুড়ায় ওয়াসা গঠনে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কাজ মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া কাটাখালি থেকে চার কিলোমিটার এলাকায় করতোয়া নদী খনন ও পুনঃখননের জন্য ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় বন্যার ক্ষতি মোকাবিলায় নদীকেন্দ্রিক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সরকার প্রচারে বিশ্বাসী নয়। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কাজের মাধ্যমে পূরণ করতে চায় সরকার।
বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বাক্স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করেছে। তবে তুচ্ছ বিষয়ে যখন তখন আক্রমণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতের যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে সেগুলো মোকাবিলার আহ্বান জানান।
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে তিনটি অঞ্চলে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গেছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে ১ হাজার ২০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ভণ্ডামির আন্দোলন না করে বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী করতে হবে। গত ১৭ বছরে বগুড়ার উন্নতি হয়নি, বরং অবনতি হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে ১৭ বছর অযত্ন ও অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছিল। এখন উন্নয়নের সময় এসেছে, যা সবাইকে একসঙ্গে করতে হবে। বগুড়ার উন্নয়নে সব সংসদ সদস্যের ভূমিকা রয়েছে। তাদের এ বিষয়ে কথা বলতে হবে এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থে নয়, জনগণের জন্য কাজ করলে মানুষ সবাইকে মনে রাখবে।
শারদীয় দুর্গাপূজায় সারা দেশে কোথাও সামান্য বিশৃঙ্খলাও ঘটেনি উল্লেখ করে আতিকুর রহমান রুমন আক্ষেপ করে বলেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি সেভাবে প্রচার করা হয়নি। ভুল সংবাদ প্রচার না করে সত্য তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিগত সরকারের মতো বাহবা পাওয়ার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম সত্য প্রচার করলেই তা সরকারের নজরে আসবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান, বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া ৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক চিকিৎসক মওদুদ আলমগীর পাভেল, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ এবং টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।
/অ